উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের ভাওয়াইয়া সংগীতের পরিচিত মুখ, গীতিকার, সুরকার, গবেষক এবং রংপুর বেতারের অতিথি প্রযোজক অনন্ত কুমার দেব আর নেই।
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, শিষ্য ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তার পরিবারের জানানো মতো মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার নিজ বাসভবনে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।
অনন্ত কুমার দেব ভাওয়াইয়া গানের সংরক্ষণ, গবেষণা ও চর্চায় দীর্ঘদিন নিবেদিত ছিলেন। তিনি উত্তরাঞ্চলের লোকজ সুর-সংগীত, কথা ও ইতিহাস সংগ্রহে নিয়মিত কাজ করেছেন; বহু গান তিনি লিখেছেন ও সুর করেছেন, যা শিল্পীসমাজ ও শ্রোতামহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়।
ভাওয়াইয়ার ইতিহাস, রীতি-নীতি ও পরিবেশনাশৈলীতে তার ছিল গভীর জ্ঞান এবং তথ্যভিত্তিক দখল, যা তাকে একজন গুণী গবেষক ও ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে তিনি দেশে-বিদেশে বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের কুচবিহারের উজানিয়া উৎসবে ২০১৮ সালে প্রাপ্ত আব্বাসউদ্দীন পদক এবং ২০২৪ সালে প্রাপ্ত স্বরূপ সম্মাননা পদক উল্লেখযোগ্য।
ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সরল, নিরহংকারী ও মানবিক চরিত্রের অধিকারী। শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, নিষ্ঠা ও সদিচ্ছা ছিল জীবন জুড়ে তার কাজের মূল প্রেরণা। বাংলাদেশের ভাওয়াইয়া অঙ্গনে তার অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে।
অনন্ত কুমার দেবের মৃত্যুতে ভাওয়াইয়া শিল্পী শফিকুল ইসলাম শফি, কবি ও সাংবাদিক অনিল সেন, কণ্ঠশিল্পী এ আর চৌধুরী পলাশ, গীতিকার ও সাংবাদিক উমর ফারুক, কবি ও গল্পকার এনাম রাজু, চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাওরাত হোসেন সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দামসহ অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থাও শোক প্রকাশ করেছে।
তার প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আজকালের খবর/এসআই

