সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবিকা হারনাে এবং অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটার কারণে শিশুরা স্কুল ছেড়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে; একই সঙ্গে অভাব ও অনিশ্চয়তার কারণে অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, কৈখালী, নুরনগর, পদ্মপুকুর, গাবুরা, মুন্সীগঞ্জসহ একাধিক ইউনিয়নে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়মিতভাবে ইটভাটা, চিংড়িঘের ও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিবর্তে তারা দৈনিক মজুরির বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও শারীরিক শ্রমে লিপ্ত হচ্ছে, যার ফলে শিশুদের শৈশব ও শিক্ষা দুটোই হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে।
অন্যদিকে, সীমিত রোজগার ও সামাজিক অনিশ্চয়তার সুযোগে অনেক পরিবার কিশোরী মেয়েদের বাল্য বিবাহে দেওয়া শুরু করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কার্যকর নজরদারি বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেখা যায় না; আইন থাকলেও প্রয়োগ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। ফলে শিশু শ্রম এবং বাল্য বিবাহ যেন নীরবে স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে মাঠে সরব হয়ে ওঠেছেন গণসংহতি আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা সংগঠক ও সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপের পরিচালক মোঃ আলফাত হোসেন। তিনি উপকূলজুড়ে সচেতনতামূলক সভা, মানববন্ধন ও স্থানীয় মানুষকে সংগঠিত করে শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
মোঃ আলফাত হোসেন বলেন, “দারিদ্র্য আর রাষ্ট্রীয় অবহেলার সুযোগে শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিকদের স্বার্থ আর প্রশাসনের নীরবতায় উপকূলের শিশুরা শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে, মেয়েরা হারাচ্ছে শৈশব।” তিনি অবিলম্বে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা বন্ধ, ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা প্রদান এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের কড়া ভূমিকা দাবি করেন।
সচেতন মহল সতর্ক করেছেন, এখনই যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয় তাহলে উপকূলীয় শ্যামনগরে একটি পুরো প্রজন্ম শিক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হবে। শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ রোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তৎপরতার বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন।
এআরজে

