আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোথাও যদি ব্যালট বক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, তাহলে কেউই রেহাই পাবে না—এমন কঠোর শাস্তিমূলক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত হওয়া যাবে না। তিনি কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কাউকে আল্লাহর দান বা তোষামোদ দিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার দরকার নেই; বরং দেশের ও জনগণের স্বার্থে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই প্রধান কাজ।
আলোচনাকালে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের নির্বাচন বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন তফসিলের কারণে জাতীয় পর্যায়ে উত্তাপ বাড়ায় প্রশাসনকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শেরপুরে নির্বাচনী সংঘর্ষে প্রাণহানির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সময় লাগতে পারে, কিন্তু কাউকেই ছাড়ানো হবে না। যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তারা আইনের আওতায় আনা হবে—এই বিষয়টিও তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাইয়ে ভাইয়ে বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল যখন মারামারিতে রূপ নেয়, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তা থামানো সবসময় সহজ নয়, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনের দিন যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত আনা হয়েছে—এটি কোনো শঙ্কার ইঙ্গিত নয়, বরং ভোটারকে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জরুরি চিকিৎসা বা সাহায্য পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থাগুলো কাজে লাগবে।
উপদেষ্টা আরও বলেছেন, সেনাবাহিনীসহ সব নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মিলিত তৎপরতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মনোবল ধরে রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
(আজকালের খবর/বিএস)

