নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছি এবং তা সফল হবে।
তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলকে সঙ্গে নিয়ে আমি পটুয়াখালী সফর করেছি। দুটি টিম জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত সব নির্দেশনা অনুসারে কাজ চলছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও এখনো ১২ দিন বাকি। তবু ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রস্তুতিগুলো দেখে সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী যে পটুয়াখালীতে ভালো ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পটুয়াখালীতে ‘‘জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬’’ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল ও ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট শতাংশভিত্তিক বিষয় নয়; আমরা চাই শতভাগ ভোটার তাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোক। সেই লক্ষ্যেই পরিবেশ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে এবং আশা করছি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটে অংশ নেবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সানাউল্লাহ বলেন, সাধারণত দেশের মধ্যে নির্বাচনের সময় যে পরিবেশ থাকে, তার তুলনায় এবারের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা সীমিত পরিসরের এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। আমরা চাই না নির্বাচনের কারণে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হোক; প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে যে কোনো উত্তেজনাও নিয়ন্ত্রণে থাকলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। নির্বাচনের পরও আমরা সবাই একই সমাজে বাস করে যাবো—সেজন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিলবোর্ড সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিলবোর্ডে রঙিন পোস্টার ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলো সাদা-কালো করার প্রয়োজন নেই।
সানাউল্লাহ বলেন, কমিশন নতুন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি; قانونমাফিক মাত্র নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না এবং কোনো প্রার্থী বা পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রস্তাব দিতে পারবেন না; তারা কেবল নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য জনগণের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় এবং ভিজিল্যান্স টিমের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি সকলকে দ্বায়িত্বশীলভাবে কাজ করে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন—এভাবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে।
আজকালের খবর/বিএস
