আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এসেছে — আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের এবং শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টটি। তবে পশ্চিমবঙ্গের নিপাহ ভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে কলকাতায় ম্যাচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কলকাতায় মোট ছয়টি ম্যাচের মধ্যে একটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ অবস্থায় সংবাদে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া কিছু শঙ্কা প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভারত সরকার ও ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক বোর্ড বিসিসিআই জানিয়েছে বর্তমানে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন ঘটনা নয়; এবার রাজ্যে অষ্টমবারের মতো ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। সম্প্রতি দুই নারী নার্সে নিপাহ ভাইরাস ধরা পড়েছে। তাদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের সংস্পর্শে থাকা সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে; এখন পর্যন্ত সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে নজরদারি, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের তদন্ত চালিয়ে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে — কেন্দ্র এ অবস্থাকে ‘স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ বলা অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নতুন কোনো নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়নি এবং তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ডব্লিউএইচও ভ্রমণ বা বাণিজ্য সম্পর্কিত কোনো বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করেনি।
বিসিসিআই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ককে ভিত্তিহীন মনে করছে। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে—তবে আপাতত বড় কোনো ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না।
বিস্তারিত হিসেবে জানানো হয়েছে, নিপাহের সর্বশেষ দুই রোগী বারাসাতে শনাক্ত হয়েছেন, যা ইডেন গার্ডেন্স থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। সেই কারণেই কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কলকাতায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ আয়োজন নিয়ে নিরাপত্তাব্যাপী কোনো সমস্যা নেই। বিসিসিআই স্পষ্ট করেছে যে কলকাতা থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না; যদি সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভিন্ন কোনো নির্দেশনা দেয়, তবেই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি আয়োজকদের মতে বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে না, তবে সব পক্ষের ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে।
আজকালের খবর/বিএস

