নতুন অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য অনুদান বড়했다 ভারত। বাজেট নথি অনুযায়ী এবার বাংলাদেশকে দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ বেশি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কিছু স্থানে ভারত-বিরোধী মনোভাব দেখা গেলেও দিল্লি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য বরাদ্দ অনুদান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লি—যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী ভারতের বাংলাদেশ অনুদান ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। উল্লেখ্য, ভারতের ২০২৬ সালের বাজেটপ্রস্তাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে ১২০ কোটি রুপি অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা পরে সংশোধিতভাবে কমানো হয়।
অন্যদিকে, চাবাহার বন্দরের জন্য এবার কোনো অনুদান রাখা হয়নি। এর আগের অর্থবছরে (‘২৪–২৫) ইরানের চাবাহারের জন্য ভারত ৪০০ কোটি রুপি দিয়েছে এবং ‘২৬ সালের সংশোধিত বাজেটে আরও ৪০০ কোটি রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল, যা এখন স্থগিত আছে।
ভারত অন্য প্রতিবেশী দেশের জন্যও বরাদ্দ পরিবর্তন করেছে। আফগানিস্তান এবার ১৫০ কোটি রুপি পাবে, যা আগের বরাদ্দ ১০০ কোটি থেকে বাড়ানো হয়েছে। সবথেকে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে ভুটান—মোট ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯ কোটি রুপি অনুদান এবং ৫২০ কোটি রুপি ঋণ। ভুটানের জন্য বরাদ্দ গতবারের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। অপরদিকে নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের জন্য সহায়তা কমানো হয়েছে।
সমগ্রভাবে নতুন অর্থবছরে বিদেশি সরকারগুলোকে অনুদান ও ঋণের মাধ্যমে মোট ৮,৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের প্রস্তাবিত ১২,১০৭ কোটি রুপির তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ কম। এই মোট সহায়তার মধ্যে ৬,৯৯৭ কোটি রুপি আসছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং আর ১,৭৯৪ কোটি রুপি আসছে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে—এতে ভারতের বিদেশি সহায়তা নীতিতে কৌশলগত ও আর্থিক পুনর্গঠন চলছে বলে বিশ্লেষকরা বলছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু, বিজনেস লাইন
আজকালের খবর/বিএস

