আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে ঢাকা-১৭ আসনের এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন সংসদ প্রার্থী তপু রায়হান। বনানী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নির্বাচনী অবস্থান এবং এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন।
সভা শুরুতেই তপু রায়হান বলেন, “ঢাকা-১৭ কেবল একটি ভোটকেন্দ্র নয়—এটি শহীদ জহির রায়হান, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ আধুনিক নগরজীবনের ইতিহাস বহন করে। এখানকার মানুষের প্রত্যাশা তাই স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আমি রাজনীতিতে এসেছি দায়িত্ববোধ থেকে, ক্ষমতা বা সুবিধার জন্য নয়।”
তিনি জানান যে তার রাজনৈতিক পথচলার মূল অনুপ্রেরণা তাঁর পিতা শহীদ জহির রায়হানের মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন। এই উত্তরাধিকারকে তিনি শুধু স্মৃতি হিসেবে দেখেন না, বরং একটি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তপু রায়হান ঢাকা-১৭ আসনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরেন। তিনি বললেন, বনানী, গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন এই এলাকায় প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত থাকলেও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার তীব্র ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। যানজট ও জলাবদ্ধতা শুধু দৈনন্দিন ভোগান্তি নয়—এগুলো বছরে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে এবং অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
তার মতে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন, নাগরিক নিরাপত্তার ঝুঁকি, সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের অভাব উপজেলার বড় সমস্যা। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি এলাকাভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান, স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, প্রযুক্তিভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
নাগরিক সেবা ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সংসদীয় নজরদারি জোরদারের কথা বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ভাষায়, “নাগরিক সেবা যদি সহজ ও জবাবদিহিমূলক হয়, জনগণের আস্থা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে ও সেবা দ্রুততা পাবে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার অবস্থান নিয়ে তপু রায়হান বলেন, “স্বতন্ত্রতা আমার দুর্বলতা নয়—এটাই আমার শক্তি। আমি কোনো দলের নির্দেশে নয়, মানুষের বিবেকের নির্দেশে কাজ করতে চাই।” তিনি যুক্তি দেন যে স্বাধীন কণ্ঠই সংসদে ঢাকা-১৭ এর প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরার সক্ষমতা রাখে।
মতবিনিময়ের সময় নির্বাচনী সহিংসতা, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়সংগত নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তপু রায়হান। “ভোট যেন হয় আস্থার উৎসব—আতঙ্কের নয়,” তিনি বলেন।
সাংবাদিকরা তার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, নাগরিক সমস্যার প্রাসঙ্গিক উপলব্ধি ও স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। প্রতিটি প্রশ্নের জবাবে তপু রায়হান স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানান।
মতবিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনেকেরই মন্তব্য, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, বাস্তবসম্মত সমস্যা বোঝাপড়া ও স্বাধীন রাজনৈতিক মনোভাব—এই তিনটি গুণ তপু রায়হানকে ঢাকা-১৭ আসনে একটি আলাদা ও নজরকাড়া প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে। তারা আরও বলেন, এই আসনের ভোট কেবল একজন প্রতিনিধিকে নয়, বরং ভবিষ্যৎ নাগরিক রাজনীতির দিকনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আজকালের খবর/কাওছার

