২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কড়া সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান ক্রিকেটে গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে; তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপরীতে নির্ধারিত ম্যাচে তারা অংশ নেবে না।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে তারা পাকিস্তান সরকারের অবস্থানের ব্যাপারে অবগত হলেও এখনো পিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ বা ব্যাখ্যা পাইনি। ফলে আইসিসি পিসিবির অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিবৃতিতে আইসিসি উল্লেখ করে যে নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণ না করা কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সব দলকে সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা থাকে—এটাই খেলাধুলার নৈতিকতা ও নিয়ম।
আইসিসি আরও বলেছে যে তাদের টুর্নামেন্টগুলো ক্রীড়াসুলভ সততা, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যের ওপর দাঁড়ায়। কোনো দল যদি নির্দিষ্ট ম্যাচ বর্জন করে, তা এই মুলনীতি ও টুর্নামেন্টের শুদ্ধতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
সংস্থাটি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে সরকারের ভূমিকাকে সম্মান জানালেও মনে করায়, এই ধরণের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট এবং বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের স্বার্থে ইতিবাচক নয়। আইসিসি বলেছে, পিসিবিকে দেশের ক্রিকেটের উপর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ পিসিবি নিজে টুর্নামেন্টের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বিবৃতির শেষে আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করা—এটা সকল সদস্য বোর্ডের যৌথ দায়িত্ব। তাই তারা আশা করছে পিসিবি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাবে।
পাকিস্তান সরকার ম্যাচ বয়কটের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ করেনি। এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন, বিশেষত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার প্রসঙ্গে; তখন তিনি জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
রাজনৈতিক কারণে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত রয়েছে; দুই দল মিলিত হয় শুধুমাত্র আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের টুর্নামেন্টে। গত বছর এশিয়া কাপে ভারতীয় দলের কিছু অনঠনও বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিসি ও পিসিবি—দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও পেশাদার সমাধানই টুর্নামেন্ট ও দর্শকদের স্বার্থে অতীব জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। ক্রিকেটভক্তরা আশা রাখছেন দ্রুত বিষয়টি মীমাংসিত হবে, যাতে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ মাঠে গড়াতে পারে।
আজকালের খবর/ এমকে

