অন্তর্বর্তী সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) এবং বাহিনীর পোশাকও পরিবর্তন করা হবে—এই তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভার পর এ কথাটি জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার ভিত্তিতে নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘‘পোশাকও বানানো হচ্ছে,’’ তিনি জানান।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, র্যাব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এদলির নাম ছিল র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)। ২০০৪ সালে তখনকার খালেদা জিয়ার সরকারের সময় র্যাব গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র্যাব ও এ বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে; একই প্রক্রিয়ায় ট্রেজারি দফতর ও পররাষ্ট্র দফতর পৃথকভাবে পদক্ষেপ নেয়। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরেই র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছিল পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিতে এবং জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে র্যাবের অতীত কার্যক্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও র্যাব বিলুপ্তির দাবির কথা উঠে এসেছে—বিএনপি ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড সংস্কারের যোগ্য নয়; ‘‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনী বিলুপ্তি ছাড়া উপায় নেই।’’
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগিরই সংশ্লিষ্ট আদেশ জারি করা হবে বলে ক্ষমতাসীন সূত্রগুলো জানিয়েছেন। পরবর্তী কার্যক্রম ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর হবে—সেটা সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে আরো বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা।
আজকালের খবর/ এমকে

