শিশু গৃহকর্মী মোহনা ও সব গৃহকর্মীর ওপর চলমান নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ, রাষ্ট্রীয় খরচে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত বিচারপদ্ধতিতে দায়ীদের কড়া শাস্তি দাবি করে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে ছিল জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম (এসএনএফ) সহ কয়েকটি শ্রমিক ও অধিকার সংগঠনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম।
সমাবেশে অংশ নিয়ে নেতারা মোহার উপর কৃত বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা বলছেন, নির্যাতনের দাগ ও শিশুটির সঙ্গে কথা বলে বোঝানো গেছে যে দীর্ঘ সময় ধরে এই পাশবিক আচরণ চালানো হচ্ছিল। তাদের দাবির তালিকায় রয়েছে—তত্ক্ষণাৎ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, দোষীদের সাজা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে মোহনার উন্নত চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে গৃহকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতার মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।
বক্তব্য রাখেন শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, কর্মজীবী নারী-এর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক সানজিদা সুলতানা, গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক-এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী আহসান হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট-এর সাধারণ সম্পাদক বাদল খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র-এর যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন-এর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ বাদল, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন-এর সাধারণ সম্পাদক এএএম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস-এর সম্পাদক পুলক রঞ্জন ধর, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আক্তার, বিলস পরিচালক নাজমা ইয়াসমীনসহ বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃত্বরা।
নেতারা বলেন, ঘটনার দ্রুত বিচার ও উপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা না হলে গৃহকর্মীদের প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন রোধ করা সম্ভব হবে না। সরকারের কাছে তারা পুনরায় দাবি জানান নির্যাতনকারী ও সহায়তাকারীদের সকলকে আইনের আওতায় এনে কড়া শাস্তি নিশ্চিত করার।
ঘটনা ও ক্ষতিগ্রস্তের চিকিৎসা সংক্রান্ত мәғлүмতায় বলা হয়, উত্তরায় নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী মোহনা বর্তমানে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮২৮ নং ওয়ার্ডের ৩৬ নং বেডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থায় সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবে তীব্র অপুষ্টি, শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক আতঙ্ক এখনও বিরাজ করছে। নেতৃবৃন্দ গতকাল হাসপাতাল পরিদর্শন করে শিশুটির চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে হাসপাতালের পরিচালক ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিতকরণ চেয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন।
আইনগত প্রসঙ্গে বলা হয়, ভুক্তভোগীর পিতা উত্তরা পশ্চিম থানায় ১ ফেব্রুয়ারি শিশুঙ্ন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার পর ওই মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাফিকুর রহমান ও 그의 স্ত্রী বিথিসহ চারজনকে গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সোমবার তাদের আদালতে উপস্থাপন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা জিজ্ঞাসাবাদ করে জামিন অস্বীকার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান—শিশু শ্রম দমন, গৃহকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কৌশল গ্রহণ করা হোক। তারা नागरिक ও শ্রমবান্ধব নীতিমালার দ্রুত বাস্তবায়নও দাবি করেন।

