সিলেট থেকে নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলের কাছে দায়িত্ব দিলে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চেহারা বদলে যাবে। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও মা‑বোনদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ ওই সময়ের মধ্যে বাস্তবে রূপ নেবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘হযরত শাহজালাল (র.) যে তত্কালে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, আমরা তারই উত্তরসূরী। গত ৫৪ বছরে দেশে অত্যাচারের রাজনীতি চালছে, সবচেয়ে বেশি প্রতিকূলতা সহ্য করেছে জামায়াত। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা স্পষ্ট বলেছি—দল হিসেবে কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেই; আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি এবং নেতাকর্মীরা কথার প্রতি দায়বদ্ধ থেকেছে।’’ তিনি বলেন, দল হিসেবে মামলাকে বাণিজ্য করা হয়নি, কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে।
সিলেটের খনিজসম্পদ ও অবকাঠামো নিয়ে শফিকুর বলেন, ‘‘সিলেট ভরপুর খনিজসম্পদে আবদ্ধ, কিন্তু সেটার সুফল সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের অনেক জায়গায় এখনও গ্যাস পৌঁছায়নি, বিদ্যুৎ সরবরাহও অনিয়মিত। নদীগুলো ভরাট করে দেয়া হয়েছে। মাদক ও অশান্তির ছায়া বিস্তার করেছে। আমরা দায়িত্ব নিলে এসব বন্ধ করে দেব—নদী খনন করে নদীবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করব।’’
শফিকুর আরও বলেন, সরকারি অফিস-আদালতে চাঁদাবাজি, ঘুষ নেওয়া আর চলবে না; কাউকে ঘুষ নেওয়ার সাহস বা সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি দেশে লুটপাট ও দুর্নীতির উপরও কথা বলেন—‘‘৫৪ বছরে গণঅর্থ লুট হয়েছে; কেউ ফেরেশতা ছিল না, সবাই কিছু না কিছু চুরি করেছে। আমরা ক্ষমা করব না, যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব। দুর্নীতি বন্ধ হলেই উন্নয়ন সম্ভব হবে।’’
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে, কিন্তু সেখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসে না। কেবল নামেই আন্তর্জাতিক—আমরা কাজ করে এটিকে প্রকৃত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো।’’ কৃষি ও মৎসচাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, কৃষকদের আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে, কৃষিপণ্য বিপণনের নিশ্চয়তা দেয়া হবে, জেলেদের জাল দিয়ে দেব এবং জালগুলো জেলেদেরই হবে। চা বাগানের কর্মীদের সুস্থ ভবিষ্যত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায় হবে।
নিজের ‘‘এক্স’’ একাউন্ট সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অপমানজনক পোস্ট পোস্ট করা হয়েছিল যা তিনি একে ‘হ্যাকিং’ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তৎপরতায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হয়েছে এবং তা প্রকাশ পেয়েছে; তিনি সেটি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং এ নিয়ে আর বাড়তি আলোচনা করবেন না।
সমাবেশে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। সমাপনী অংশে জামায়াত নেতারা প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে নেতাকর্মীরা এসে মিলিত হন, এবং এবার সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে ব্যাপক সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন—এটিকেও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।
জামায়াত নেতার বক্তব্যে অংশ নেওয়া তথ্যসূত্র: আজকালের খবর/আর এম

