বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠিত হলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে। পাশাপাশি তারা সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ বা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করারও পরিকল্পনা করছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীকে কখনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বকে রাজনীতির আড়ালে গুম করে দেওয়া ঠিক নয়; এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সতর্কতা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিগত দেড় দশকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও গৌরব নিয়ে অনেক প্রশ্নও উঠেছে, যেগুলোর উত্তর সামনের প্রজন্মকে দিতে হবে। সেনাবাহিনীকে দেশের নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে ধরে রেখে সেটিকে যেন কোনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা না হয়, সেটিই তাদের মূল অধিকার ও দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক বলেন, আমি সশস্ত্র বাহিনীকে একটি বৃহৎ পরিবারের অংশ মনে করি। ছোট বেলা থেকেই আমার পরিবারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিকটাত্মক সম্পর্ক ছিল। আমার পিতাকে ছোটবেলাতেই হারিয়েছি; তবুও সেনাবাহিনী ও তার সদস্যদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও গর্ব আছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের দিনের মতো নির্মম ঘটনার স্মৃতি কখনও ভুলে যাওয়া যাবে না। এমন দিনের অনুভূতিকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা দরকার—এজন্যই আমরা বিভিন্ন বিকল্প শিরোনাম নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে সেনাবাহিনীকে কোনোভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না; এটা অতীতে করা হয়নি, নেই এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
শেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি দলের অস্তিত্বই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী রাখে। বিএনপি সব সময় বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কাজ করবে এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রাজনৈতিক রাজপথে বিলীন হয়ে না পড়ার দিকে সচেতন থাকবেন—এটাই দেশের কল্যাণে সঠিক পথ।
