এক দিনের মাঝেই, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। এই নির্বাচন যেন একটি নতুন সরকারের জন্য দারুণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যাতে তারা দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যেতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী সাবেক কর্মকর্তার নাম পল কাপুর, যিনি বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রবিশ্বাস, মার্চের প্রথম সপ্তাহে পল কাপুরের ঢাকায় একটি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকায় আসবেন বলে জানা গেছে। এই সফর আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যেই পরিকল্পিত।
এক সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বাইরে থাকলে মার্চের শুরুর দিকেই পল কাপুরের ঢাকা সফর অনুষ্ঠিত হবে।
বলা হয়ে থাকে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পল কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার জন্য অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেন। এর পরে এই নিয়োগ মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির মাধ্যমে অনুমোদন পায় এবং অক্টোবরে চূড়ান্ত হয়।
সিনেটের শুনানিতে পল কাপুর উল্লেখ করেছিলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বের পর্যায়ে তিনি এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থ বুঝিয়ে তুলে চীনের প্রভাব রোখা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপর মনোযোগ দেবেন।
পল কাপুর আগে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানে নেভাল পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলে অধ্যাপনা করেছেন। ২০২০-২১ সালে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন।
এর আগে তিনি ক্লারমন্ট ম্যাককেনা কলেজের শিক্ষক ছিলেন ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আমহার্স্ট কলেজ থেকে স্নাতক ও ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অপরদিকে, নির্বাচন প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিবেচনা করে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচনে কোন দলের পক্ষপাতিত্ব করবে না। যেই দলই বিজয়ী হোক, তারা সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অবৈধ নাগরিকের ফেরত পাঠানোসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সম্ভাব্য কোনো সহিংসতা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান। পাশাপাশি, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিও তারা তুলে ধরেন।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৈঠক শেষে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, নির্বাচনকালে বাংলাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিষয়ক জানা ও আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন করেছেন।
