আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুস্থ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সারাদেশে লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, সবাইকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজনিজ অস্ত্রগুলো সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বলা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ২৭ হাজার ৯৯৫টি অস্ত্র জমা পড়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, লাইসেন্স থাকলেও এখনও ২০ হাজার ২৮৮টি অস্ত্র জমা পড়েনি। নিশ্চিত হওয়া যায়, দেশের মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৮৩টির মতো, যার মধ্যে অনেকের কাছ থেকে এখনও অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই অস্ত্রগুলো এখনও দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় এক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেশ কিছু অস্ত্র বিগত সরকারের সময় থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, এবং এর মালিকেরা বিদেশে পালিয়ে গেছেন বা দেশের ভেতরে গোপন অবস্থানে রয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক অস্ত্র সঠিক সময়ে আর জমা না পড়ায় নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম জানান, জমা না দেওয়া বা অপ্রাপ্ত অস্ত্রগুলো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সময়ে থানাগুলোর লুট হওয়া অস্ত্র বা অবৈধ পথে আসা অস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণে এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপারেশন চালিয়ে অবৈধ ও জমা দেওয়া হয়নি এমন অস্ত্রগুলো উদ্ধারে বদ্ধপরিকর। এ জন্য তারা বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে, যাতে ভোটের সময় কোনো সশস্ত্র সহিংসতা না ঘটে। তবে এখনও ২০ হাজারের বেশি অস্ত্র মাঠে রয়েছে, যা জননিরাপত্তা নিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর থেকে এসব অস্ত্রধারীরা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে, এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনকার পরিস্থিতিতে সকল নিরাপত্তা বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে যাতে কোন সহিংসতা বা অস্থিরতা ঘটনায় না পড়ে। সরকার ও নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সবার জন্য নিরাপদ করে তুলতে এই অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
