গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং কোনও ধরনের শঙ্কা বা অশান্তির আশঙ্কা নেই বলে confidently নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এর কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় মোহনপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ সব কথা বলেন।
কমিশনার বলেন, গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক গুজব ছড়ানো হয় যে নির্বাচন হবে না, বা বৈধ হবে না। তবে আজকের দৃশ্য পুরোপুরি তার বিপরীতে। সবাই দেখছেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে বিরতিহীনভাবে চলছে, কোথাও কোনো অশান্তি বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ফল স্বাদ ও ফলাফল মেনে নেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আগ্রহ ছিল একটি ঐতিহাসিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এবং এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি এগোচ্ছে। দেশবাসী দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাঁদের নাগরিক অধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করছেন। আমি নিজেও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছি, এটি আমার জন্যও গর্বের বিষয়।
ভোট কেন্দ্রে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের সহিংসতা বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো থেকেও ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা এসেছে, যা দেশীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি ইতিবাচক দিক।
টিভি পর্দায় দেখা গেল, উভয় দলই বলছে, ফল যাই হোক, তারা তা গ্রহণ করবে। নির্বাচন স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হওয়ায় সাধারণ মানুষ সব পক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। এর ফলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলবে এবং ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে ফলাফল প্রকাশের পর দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা আরও দৃঢ় হবে।
২০১৮ সালে যখন নিজে ভোট দিতে এসেছিলেন, তখনকার অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি জানান, তখন এই কেন্দ্রেরই ভোট কেন্দ্রে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তার বাসা কাছেই হওয়ায় ভোট দিতে যেতে হয়েছিল। তখন নিজেকে ভোট দিতে পাওয়ার অনুভূতি অমূল্য ছিল। তবে ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণের পরে এখন তিনি মিন্টু রেডে থাকেন।
সেই সময়ের স্মৃতি জানান, ২০১৮ সালে যখন ভোট দিতে গিয়েছিলেন, তখন গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছিল যে, আপনার ভোট ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, যা শুনে তিনি ফিরে গিয়েছিলেন। আজকের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে তিনি সন্তুষ্ট।
উপসংহারে তিনি বলেন, এই ধরনের শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে, যাতে দেশের ভোটাররা নিশ্চিন্তে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
