স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট বিবেচনায় এবং অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে এবার ২৬ মার্চে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রবিবার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্য অনুযায়ী সাধারণত এই দিবসে আলোকসজ্জা করা হয়। তবে চলমান আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে, যাতে ফুয়েল ক্রাইসিস না হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি না হয়, সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তটি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয় ও সাধারণ মানুষ সবাই একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ২৫ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হবে। এই দিনটিকে অতীতের মতোই সম্মানের সাথে স্মরণ করা হবে, যার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একান্ত দায়িত্বে থাকবে দেশের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, ২৬ মার্চ ভোরে সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের অনুষ্ঠান হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এর জন্য প্রস্তুত থাকবেন। যেন এই আনুষ্ঠানিকতা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সব ধরনের পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হয়েছে।
এছাড়া, ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন রকম পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের সহায়তা ও ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের মাধ্যমে শ্রমিক, বিজনেস ও রোড ট্রান্সপোর্ট সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
মন্ত্রী এক প্রশ্নে বলেন, নিখোঁজ বা স্পট ক্রাইমের সঙ্গে স্থানীয় মাফিয়া বা মব গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা আলাদা বিষয়। নরসিংদীতে এক যুবতীর ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় সৎ বাবা জড়িত থাকলেও, পুলিশ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে ও বেশিরভাগই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামের ঘটনার মতো অন্য কোনও ব্যাপারে এখনো তদন্ত চলছে, কোন ঘটনাকেই সাধারণ মব কালচারের সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না। সরকারের লক্ষ্য, বাংলাদেশ থেকে মব কালচার সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা।
ঈদ মুখিয়া, বেতন-ভাতা ও শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা সময়মতো পরিশোধের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে আলোচনা করেছে। আশা করা হচ্ছে, ঈদের আগে সবকিছু যেমন বেতন, বোনাস ইত্যাদি যথাসময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হবে। সরকার, ব্যাংকিং সেক্টর ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে কোনও অপ্রত্যাশিত সমস্যা না ঘটে।

