প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান জানিয়েছেন, ৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা বলেন, সরকারের টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এত শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মূল লক্ষ্য রয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই অক্সিজেন আচ্ছাদনে আনা।
এদিকে, তিনি সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতির কথাও বলেন। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার খালের মধ্যে বর্তমানে ৫৬১ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে, যা মোট প্রকল্পের শতকরা ৪৪.৫৫ ভাগ।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, আগামী বছর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিকভাবে নববর্ষ উদযাপন করা। এর অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করেছে। এই উৎসবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, গত কিছু বছর ধরে বাংলাদেশে বৈশাখের উৎসব অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্যভাবে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এসব পার্ব ও উৎসব আরও পরিকল্পিতভাবে ও স্ব-বিনোদনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, ১৪ এপ্রিল শুধু বাংলাদেশি নববর্ষই নয়, বরং এই সময়কালে প্রতিবেশী ও কাছাকাছি দেশের মতো মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং ভারতের কিছু অংশেও নববর্ষ উদযাপিত হয়। তিনি জানান, আশা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে আঞ্চলিক এই উৎসবের আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ চালু করা হবে। এভাবেই সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ইরানি বা পারসিক নববর্ষের মতো ‘নওরোজ’ আসামি বা উপমহাদেশে খুবই জনপ্রিয়। তারা এই জাতিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এই উৎসব পালন করার উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা যায়। তিনি মনে করেন, এই উৎসবগুলো আমাদের জাতিগত ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য দৃঢ় করতে এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবোধকে আরো সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

