শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বরং গবেষণা আর উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে এমনটি জোরদারভাবে বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে বৈশ্বিক মানের র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই পেছনে থাকছে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এই পরিস্থিতির জন্য গবেষণা, সৃষ্টিসাংবাদিকতা এবং উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ : রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব চলছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, অটোমেশন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আমাদের জীবন ও কাজের ধরন নির্ধারণ করছে। এসব প্রযুক্তি একদিকে আমাদের চিন্তার জগত নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে মানুষের কর্মসংস্থানেও পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের শিক্ষা পদ্ধতিকে অবশ্যই নতুন করে সাজাতে হবে। মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভরশীলতার পরিবর্তে দক্ষতা ও সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে মনোযোগী করে গড়ে তুলতে হবে শিক্ষাব্যবস্থাকে। এর ফলে তরুণরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজের উদ্যোক্তা সত্তা তৈরি করতে পারবে। এর জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ইনোভেশনের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেমন ক্যাম্পাস থেকে বিজনেস আইডিয়া বিকাশ, ইনোভেশন ফান্ড, সায়েন্স পার্ক ও একাডেমিয়া-শিল্পখাতের অংশীদারিত্ব। তিনি指出, শিক্ষা শুধু প্রতিষ্ঠানিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, এই ধারনা থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন বিষয় ও সংযোগ ঘটিয়ে জ্ঞানের সীমানা বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের অ্যালামনাইদেরকে গবেষণা ও উদ্ভাবন সহায়তায় সম্পৃক্ত করা জরুরি। কালক্রমে এটাই হবে আমাদের ভবিষ্যত উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বোঝান যে, প্রকৃত মেধাবীর প্রেরণায় দেশ আরো সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের মেধা পাচার রোধ করে দেশের মানসম্পন্ন ঐতিহ্য ও জ্ঞানকে বিকশিত করতে হবে। তিনি জনগণের মুক্তিযুদ্ধের বার্তা স্মরণ করে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারা বহু প্রাণ দিয়ে গেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতা প্রধান ভূমিকা রাখবে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন নবীন শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পক্ষেত্রের পুরো ধারাকে সমন্বিত করে তুলতে। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে ইনোভেটিভ পরিকল্পনা, যেমন ট্রেনিং, ইনোভেশন ফান্ড, ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতের চাকরির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ক্যাম্পাস থেকেই নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী ধারণা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং ব্রিটিশ লেখক টম উইনের মতে, টেকনোলজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ভাবনই মূল শক্তি। জনশক্তি ও গবেষণায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশকে মেধা ও উদ্ভাবনে সমৃদ্ধ করা সম্ভব, যা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, সরকার সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে—বিশেষ করে উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, ও দক্ষতা উন্নয়নে নিরলস কাজ। তিনি সতর্ক করেন যে, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে যেন আমরা হারাতে না বসি, শিক্ষকদের সবাইকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ.ন. ম. এহসানুল হক মিলন, সদস্যরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

