সরকার ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৯৬ জন প্রার্থীর নিয়োগ দিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই মূল পরীক্ষায় বঞ্চিত ছিলেন। আজ (১৩ মে) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশে এসব প্রার্থীদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
২০০৭ সালে বিএনপির সরকারের সময় প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে ৩,৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তবে ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসব ফল বাতিল করে দেয়, কারণ সেখানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এরপর বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট এই ফল বাতিলের বৈধতা দেন।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল হওয়ার পর আবার ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, এবং তাতে ৩,২২৯ জন উত্তীর্ণ হন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ফল বিবাদের কারণে আদালত ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষার বৈধতা নিয়ে রায় দেয়।
সম্প্রতি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই রায় অনুযায়ী ১,১৩৭ জন নিয়োগ পায়, কিন্তু এখনও অনেক প্রার্থী তাদের চাকরি ফিরে পাননি। এই পরিস্থিতিতে গত বছরের ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ কার্যকর করতে নির্দেশ দেয়।
আজকের এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে, আরও ৯৬ জন প্রার্থী নিয়মিত চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পেলেন। তবে এই নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে যোগদানের প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদানে ব্যর্থ হলে, তাঁদের নিয়োগ বাতিল হবে এবং তারা চাকরিতে আর যোগদান করতে পারবেন না।
নিয়োগের ক্ষেত্রে অধরা প্রার্থীদের জন্য এক আশার আলো জ্বলছে, যেখানে দীর্ঘ কূটদ্বন্দ্ব, আইনি লড়াই এবং নানা জটিলতার পর আজ তারা অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারলেন। এই নিয়োগ আরও ব্যাপক করণের মাধ্যমে দেশের সরকারি চাকরির সৌন্দর্য আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
