প্রধানমন্ত্রীের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্তমান সরকারের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভা। এতে মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৩,৮৯০ কোটি টাকা। তবে, গত আলোচিত ও বিতর্কিত প্রকল্প চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এই সভায় অনুমোদন লাভ করেনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, আজকের সভায় মোট ১২টি প্রকল্পের উপস্থাপন করার কথা থাকলেও, শেষমেশ ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এবং বাকি প্রকল্পগুলো পানিসম্পদ, ভূমি, পল্লী উন্নয়ন, সড়ক পরিবহন, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় দ্বারা।
অধিকৃত ১০টির মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো:
– সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্প।
– স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২।
– প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঢাকা সিএমএইচ এ ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়, প্রথম সংশোধন)।
– শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্প—মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট (তৃতীয় সংশোধন) ও ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত)।
– ভূমি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।
– পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ।
– জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন প্রকল্প।
– বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন প্রকল্প।
– পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প।
অপরদিকে, এই সভায় চট্টগ্রাম আনোয়ারায় ৪,০০০ কোটি টাকার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে, শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সম্ভবত তার অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক দিক থেকে চিন্তা-ভাবনা থাকলেও, এটি বেশ আলোচিত ও প্রত্যাশিত প্রকল্পের অনুমোদন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
আজকের খবর/ এমকে

