প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার জন্য দিন ধরা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে। এর মধ্যে বাজেটের মোট আকার নির্ধারিত হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য সরকারের আয়কর ও শুল্ক বাড়াতে হয়, যার ফলে বিভিন্ন খাতে করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে জনকল্যাণের লক্ষ্যেও কিছু খাতে করের হার কমানো বা রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বাজেটে বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে শতাধিক পণ্য ও সেবার কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে অনেক পণ্যের উৎপাদন খরচ হ্রাস পাবে এবং কিছু পণ্যের বাজারদর কমে যেতে পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের মতো মৌলিক কৃষিজাত পণ্যের উপর উৎসে কর হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এই করের হার ছিল ১ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে, এখন তা এক ধাক্কায় ০.৫ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে সহায়ক হবে।
এছাড়াও, খেজুরের আমদানির উপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকদের খরচ কমবে এবং বাজারে খেজুরের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
মসলা আমদানিতেও ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ অন্যান্য মসলার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিশুখাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ সরাসরি আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানো হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় শিশু খাদ্য কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ কমবে এবং বাজারে এর দাম হ্রাস পাবে।
সারটির জন্য ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার ও জিংক অ্যাশের আমদানিতে শুল্ক শূন্য করার প্রস্তাব থাকায় কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন ও খরচ হ্রাসের আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কীটনাশকের কাঁচামাল ও আমদানি করা কীটনাশকের উপর ভ্যাট ও অগ্রিম করের ছাড় পাওয়া যাবে, যার ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে।
পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতির আমদানিতেও করের হার শূন্য শতাংশে নামানোর প্রস্তাব রয়েছে, যা এই খাতের উৎপাদন কম খরচে করতে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য খাতে, কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহৃত ফিল্টার ও হার্টের স্টেন্টের দাম কমানোর জন্য একাধিক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত মর্চুয়ারি ও ক্যান্সার ওষুধের মূল কাঁচামাল শুল্ক ও ভ্যাট মুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি, ওষুধের জন্য ব্যবহৃত ৫১টি উপকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সেমিকন্ডাক্টর, সার্ভার, প্রসেসর ও পিসি মেশিনের আমদানির ওপর সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে। যার ফলে এই খাতের দ্রব্যাদির দাম কমবে এবং দেশের প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন হবে।
পরিবহন খাতে, ইলেকট্রিক গাড়ির করভার কমিয়ে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি আনা ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির কর কমানোর পাশাপাশি, ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের ওপর প্রয়োজনীয় কর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা পরিবেশ বান্ধব যানবাহনের দাম কমাতে দারুণ সহায়ক হবে।
সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ক্ষেত্রে, উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমা ক্যামেরার শুল্ক কমানোর পাশাপাশি, গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের শুল্কও হ্রাস করা হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য, সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে সব ধরনের কর ও শুল্কের অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম যেমন কমবে তেমনি পণ্যসুবিধা ও সুবিধাজনক সেবা সহজলভ্য হবে।
