বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, চট্টগ্রাম ও পার্বত্যাঞ্চলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আকস্মিক পাহাড়ি ঢল এবং অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে দুর্যোগপূর্ন এলাকা থেকে মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে শুরু করেছে। আজ বুধাবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন, উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ বিতরণের পর তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১১ জুলাই থেকে তিনি নিজে ভ্রমণ করেছেন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার এবং বান্দরবান জেলাতে। এসব অঞ্চলের বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করে তারা যেসব বাস্তব সমস্যা রয়েছে সেগুলোর সমাধানে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওঁই এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে এই মহতী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রামে শত্রুর পাশাপাশি আরও জেলাতেও জরুরি ত্রাণ ও খাবার বিতরণ অব্যাহত আছে। তিনি জানান, বর্তমানে খাগড়াছড়ির সব আশ্রয়কেন্দ্র খালি হয়ে গেছে, আর অন্যান্য জেলাগুলোতেও নতুন করে আশ্রয়প্রার্থী মানুষের সংখ্যা কমে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী জানান, কিছু বিশেষ অঞ্চল যেমন বাঁশখালী, সাতকানিয়া, রামু, পেকুয়া, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, দীঘিনালা ও বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনের ফলে গ্রামীণ রাস্তা ও ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানির নিচে চলে যাওয়ায় কিছু এলাকায় পানীয় জল সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দ্রুত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও বোতলজাত পানি সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ সচল ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতির কাজ দ্রুত চালানো হচ্ছে। ত্রাণ বরাদ্দের ব্যাপারে বলেন, সরকার জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি জেলায় এখনো পর্যন্ত ২ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১,২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৮৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ২৫৬ মেট্রিক টন চাল ও ২০.৮৫ লাখ টাকা, রাঙ্গামাটিতে ২৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৫ লাখ টাকা, খাগড়াছড়িতে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩০.৫০ লাখ টাকা এবং বান্দরবানে ৫৫ মেট্রিক টন চাল, ৪ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ৮৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর বড় প্রমাণ হলো, মাঠে সরাসরি তদারকি করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি সচল করতে এবং কৃষকদের বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ। তিনি শেষেও বলেন, এই সংকট থেকে দ্রুত উঠে আসতে সরকারের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কেউই অনাহারে থাকবেন না।
