দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের প্রস্তুতকারকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস প্রতিবেদনে এসেছে। এই দুটি জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারে আরও উন্নতি ও বাজারে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দুটি যন্ত্রের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদনে সরকার সহায়তা দেবে। বিশেষজ্ঞ দল দুটি—একটি ভেন্টিলেটর, অন্যটি হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন—প্রস্তুত করেছে বলে সভায় জানানো হয়। অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর, এই যন্ত্রগুলো দেশের সব হাসপাতাল ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় উৎপাদনের কারণে এ মেশিনগুলো তুলনামূলক কম খরচে বাজারে আনা সম্ভব হবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী করে তুলবে। পাশাপাশি, এই প্রযুক্তি যদি সফলভাবে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হয়, তা দেশের ওপর বিদেশি প্রযুক্তির নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেন্টিলেটর গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের জীবন রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। তাই এর নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। অন্যদিকে, হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য উপযোগী। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। ফলে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা বা জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী পরিবহণের সময় এই চিকিৎসা সরঞ্জামটি খুবই কার্যকর হয়ে উঠবে। সভায় যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সচিব ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ ডা. মামুন শিবলী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

