বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ ঝুকি নিয়ে বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা এই মাসের মধ্যেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরিত হবে। দেশের বিমান বাহিনী ও জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য এপ্রিলের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন টাকা, যা প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য দেশব্যাপী সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে প্রকাশিত।
সরকারের এই সিদ্ধান্তটি মূলত বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা, যারা পূর্বের আওয়ামী লীগ সরকারের এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বোয়িংয়ের দিকে ঝুঁকে ছিল। প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, তবে ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মেটাতে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজের প্রয়োজন। ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই সংস্থার বহর আরও ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা চলছে।
শুধু বোয়িং নয়, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও সরকারের আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে একটি ‘মিশ্র বহর’ পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট কারখানার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে, স্বল্পমেয়াদে বিমান বহর বাড়ানোর জন্য আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে লিজ বা ভাড়ার ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, আগামী জুন মাসে জাপানের টোকিওর পথে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গত সরকারের সময় স্থগিত করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, বোয়িং থেকে এই ১৪টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতাও উন্নত হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
আজকালের খবর/ এমকে

