বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করতে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর নোটিফিকেশন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালন করতে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ট্রেনিং অন ডব্লিউটিও নোটিফিকেশন রিকয়ারমেন্টস’ নামে চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ডব্লিউটিও-এর নিয়ম মেনে চলা, নিয়মিত হালনাগাদ থাকা এবং বৈশ্বিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য নোটিফিকেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ডব্লিউটিও-এর টুলবক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যার যথাযথ প্রয়োগ বৈদেশিক বাণিজ্যে আরও কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেছিলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে। কর্মশালা শেষে শেখার ফলত অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগে গুরুত্বারোপ করেন। এর জন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (ITTC)-এর সাথে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা ডব্লিউটিও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যার মাধ্যমে সংস্থাটি নতুন উদ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান, ডব্লিউটিও-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর ওসমান আলী খিলজি এবং সেন্ট্রাল ও ইস্টার্ন ইউরোপ, সেন্ট্রাল এশিয়া ও ককেশাস অঞ্চলের হেড অব কাউন্সিলর ড. কেঞ্জা লি মেনটেক। চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন, এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত, যা দেশের বাণিজ্য উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা।

