যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে দেশত্যাগী বা স্বার্থবিরোধী বলে উল্লেখ করে এটি সংসদে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু ধারা রয়েছে, যা পরীক্ষা করে বাতিল করা সম্ভব। সরকার চাইলে এই চুক্তিকে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই বাতিল করতে পারে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি তুলেছেন। অধিবেশন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
রুমিন বলেন, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রীর এক বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। এর মধ্যে, দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানি পণ্যের আমদানির আসল সমস্যা, দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নীতিমালা সংশোধনের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রফতানি কম থাকার বিষয়ে মন্তব্য করেন, যার কারণে এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্যই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
রুমিন স্পষ্ট করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তখন বিভিন্ন সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকরা বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করতে পারে না এবং এতে দেশের স্বার্থবিরোধী ধারা থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কিছু নেতারা বলেছিলেন নির্বাচনের পরে একটি নির্বাচিত সরকার এ চুক্তি করে ভালো হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওই সময়ের অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি স্বাক্ষর করে।
রুমিন জানান, চুক্তির কিছু শর্তে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক নীতি ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক শর্ত, যা নিয়ে এ সময় প্রশ্ন ওঠে।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, পয়েন্ট অব অর্ডার মূলত চলমান কার্যক্রম বা সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রযোজ্য। এ বিষয়ে ৩০১ বিধির উল্লেখ করে তিনি জানান, এটি একটি নতুন নীতিগত বিষয় হওয়ায় পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে বিবেচনা সম্ভব নয়। বিষয়টি যদি আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়, তবে আলোচনা সম্ভব।
কথা শেষ করে রুমিন স্পিকারকে বললেন, এই চুক্তি চাইলে সরকার বাতিল করতে পারে। তাই সংসদে এই বিষয়টি তোলা উচিত।
উত্তরে স্পিকার জানান, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে নেওয়া সম্ভব নয়, বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সংসদে এই আলোচনাটি চলাকালে স্পিকারের মন্তব্যে নিয়ন্ত্রণে থাকেন।

