দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, হাওরাঞ্চলের উর্বর জমি দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বর্তমান সরকার স্থানীয় হাওরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের কল্যাণের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মন্ত্রী মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে সুনামগঞ্জের সার্কিট হাউসে এক উপস্থিতি সমর্থিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, হাওর অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আগামী তিন মাসে সুনির্দিষ্টভাবে কৃষক পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া এই সাহায্য কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত রাখতে mন্ত্রণালয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষকদের সাহায্য পৌঁছে দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন। এ জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে এ তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তাই এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের সাহায্যার্থে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আমিনুর রশীদ ইয়াসীন, তিনি হাওর অঞ্চলের কৃষির রক্ষা ও উন্নতির জন্য সমন্বিত হাওর ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি গ্রহণের ওপর জোর দেন। এর মধ্যে রয়েছে হাওর খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ, হারভেস্টার সরবরাহ ও কৃষি সহায়তা কার্যক্রম।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, হাওর ইকোসিস্টেমের সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রতিবার একই ধরনের দুর্যোগ এড়ানো যায়।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার উল্লেখ করেন, হাওরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর, মন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষকদের জন্য তিন মাসের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

