ইরাকে ভয়াবহ মিসাইল হামলার শিকার হয়ে নিহত প্রবাসী মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ আজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সরকারি উদ্যোগে তার দেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তাঁর মরদেহ বহনকারী তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহত মোহাম্মদ শ্রাবন (পাসপোর্ট নং-ইজে ০৮২০৩২৭) মুন্সিগঞ্জের চরবাকখালি গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ নলি মিয়ার পুত্র। দীর্ঘ দশ বছর ধরে জীবিকার সন্ধানে তিনি ইরাকের বাগদাদে ছিলেন। সম্প্রতি বাগদাদে সংঘটিত যুদ্ধের সময় একটি মিসাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি জীবনাবসান করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আন্তরিক সমবেদনা জানান।
বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তদারকিতে মরদেহ সেটেলমেন্টের পর দেশে পাঠানো হয়। ২৭ মে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে তাঁর মরদেহ তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর TK0843 ট্রানজিটে রওনা হয়। এরপর দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে ২৯ মে সকালে আবারো তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর TK0712 দিয়ে মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শ্রাবনের পরিবারের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
আনন্দের এই মুহূর্তে পরিবারের স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন এবং দাফনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এভাবেই নিয়তি ও কত কঠিনভাবে বাস্তবতায় মিশে আছে মানবতার গল্প।
