পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দমুখর পরিক্রমায় রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে ব্যাপকভাবে। ঈদের টানা ছুটির শেষ দিন রবিবার (৩১ মে), সকাল থেকেইfamilies-সহ বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাজির হন। মূল আকর্ষণ ছিল অপ্রতিরোধ্য আগ্রহে ভিড় জমানো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
সকাল ১০টার পর থেকেই টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দেখা যায়। টিকিট সংগ্রহের পর উপস্থিত বিভিন্ন বয়সের মানুষ একে একে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন। বিশেষ করে বাঘ, হাতি, জিরাফ, হরিণ ও বানরদের খাঁচার সামনে সর্বোচ্চ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশুদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকরা নানা প্রশ্নে প্রাণীদের সম্পর্কে উৎসাহের সঙ্গে জিজ্ঞেস করছিলেন।
উষ্ণ বাতাসে অনেক দর্শনার্থী বিশ্রামাগার ও লেকের পাড়ে বসে সময় কাটিয়েছেন। কেউ কেউ সেলফি তুললেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি রাখছেন। ঢাকা শহর ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকেও লোকজন আসে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে।
শেওড়াপাড়া থেকে পরিবারের সঙ্গে এসে রিজওয়ান বলেন, ‘বাচ্চাদের সঙ্গে ঘোরার জন্য এসেছি। ঈদে গ্রামে যাওয়া হয়, এবার ঢাকায় থেকেই ঘুরে নেওয়ার সুযোগ হলো।’ অন্যদিকে রামপুরা থেকে আসা জেসমিন আক্তার জানান, আগে পরিকল্পনা ছিল শুক্রবার আসার। তবে ব্যস্ততার কারণে পারেননি। সন্তানের চাহিদা ছিল পশু দেখার, ঠিক এই দিন এসে তাদের প্রিয় মহিষ ও অন্যান্য জানোয়ারের কাছাকাছি যেতে পারায় তারা খুবই খুশি।
বিশেষ করে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। কোরবানির পশু হিসেবে বিক্রির সময়ের পরে বর্তমানে এই মহিষটি জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেখা যায়, শত দর্শনার্থীর ভিড় জমে খাঁচার সামনে।
মুমিন উদ্দিন বলেন, ‘ফেসবুকেই দেখেছিলাম মহিষটিকে। সরাসরি দেখার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি। ভিড়ের মধ্যেও খুব উপভোগ করছি।’
চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘‘দর্শকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আমরা। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নিরাপত্তাকর্মীদের তৎপরতা সবই নিশ্চিত করা হয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনে এক লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন।
চিড়িয়াখানার ভেতরে ও চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখা গেছে। মিরপুরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানা গেট পর্যন্ত যানবাহনের চাপ অনুভূত হয়। যানজটের কারণে অনেক দর্শনার্থী হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান।
চিড়িয়াখানার প্রধান গেটের বাইরে খাবার, খেলনা, আচার ও পাখার দোকানীদের উপস্থিতিও ছিল দৃশ্যমান। আচার বিক্রেতা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘‘গতকাল বিকেলে থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। আজ সকাল থেকে চাপ বেশী। আশা করি বিক্রিও ভালো হবে।’’
অপরদিকে, ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষ হওয়ায় অনেক মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এই ফিরতি যাত্রায় চাপ খুব বেশি নয়। সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীরা সহজে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।

