বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত মে মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ও আশপাশের স্থানে বিশেষ অভিযানে ব্যাপক চোরাচালান বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে প্রায় ১৭৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে। এই অভিযানগুলিতে একাধিক ধরনের মূল্যবান সামগ্রী ও বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও গাজা উদ্ধার ও আটক করা হয়।
বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি ৬৪৮ গ্রাম স্বর্ণ, ৪ কেজি ১০০ গ্রাম রূপা, ১১,৪১৯টি শাড়ি, ২,৮৩১টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৯,৩৬৮টি তৈরি পোশাক, ৪,৫১৪ মিটার থান কাপড়, ১২৮,৯২৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৩৭,১৫৪ পিস ইমিটেশন গহনা, ৩৯,৯৯৭৯৭টি আতশবাজি, ৬,১৭ ঘনফুট কাঠ, ৭,০৭ কেজি চা-পাতা, ৬৫,৭০০ পিস ব্লেড, ৩,৩১০ কেজি সুপারি, ২৫,৮৬০ কেজি কয়লা, ৩,৪৬৫ ঘনফুট পাথর, ১৭০ ঘনফুট বালু, ৪০৫টি মোবাইল ফোন, ২,৯৪০টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৫৬ হাজার ১৪৮ পিস মোবাইল যন্ত্রাংশ, ৩৬,৪১১টি ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ১৩,০৫৩টি চশমা, ৯৬,৪০২ কেজি জিরা, ২৩,৪৫১ কেজি চিনি, ২০ লাখ ৭ হাজার ৮৬৯ প্যাকেট নানা খাদ্যসামগ্রী, ৪,৬৯১ কেজি রসুন, ৫৯৭ কেজি সার, ২২৮ লিটার জ্বালানি তেল, ২,৬৪২ প্যাকেট কীটনাশক এবং ২,৮৯,০৫০ পিস চকোলেট।
এছাড়া, অভিযান চলাকালে জব্দ করা হয়েছে ৭৪৫টি গরু-মহিষ, দুটি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান, চারটি মাহেন্দ্রা গাড়ি, ১১টি পিকআপ, চারটি প্রাইভেটকার বা বাস, ১৩টি ট্রলি ও মাইক্রোবাস, ৪০টি সিএনজি, ইজিবাইক ও অটোরিকশা, ৪৮টি মোটরসাইকেল ও ১৭টি বাইসাইকেল ও ভ্যান।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি পিস্তল, একটি রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন, ২৫৮ রাউন্ড গোলাবারুদ, একটি রকেট লঞ্চার এবং আরও কিছু অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মে মাসে ব্যাপক পরিমাণ মারিজুয়ানা, ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), কোকেন, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিদেশি ও দেশের তৈরি মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ৮৮৩ গ্রাম ক্রিস্টাল ম্যাথ, ২৬০ গ্রাম কোকেন, ৩৩৭ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ৮০৭ বোতল ফেনসিডিল, ৮ হাজার ৬০৫ বোতল বিদেশি মদ, ২৬৮ লিটার বাংলা মদ, ২ হাজার ৩৭ বোতল বিয়ার, ১ হাজার ৭৫২ কেজি গাজা, ২ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৩ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯টি সিরাপসহ অন্যান্য ওষুধ।
সীমান্তে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকবিরোধী অভিযানে ১৮৮ জন চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯২ জন বাংলাদেশি, ছয়জন ভারতীয় এবং ৩৯২ জন মিয়ানমারীয় নাগরিককেও আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।
এই ব্যাপক অভিযান ও জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ পণ্য এ ধরনের অবৈধ চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার অনেক বড় ব্যর্থতা এবং সতর্কতামূলক বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিগুলোর সফলতা স্পষ্ট হচ্ছে।

