প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের অন্যতম শক্তি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, যতদিন তার জীবন থাকবে, ততদিন তিনি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। শনিবার সকালে কক্সবাজারের পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল শক্তিশালী নয়। বিএনপি যেখানে জনগণের জন্য রাজনীতি করে বলছে, সেখানে সত্য হলো তাদের ক্ষমতার মূল উৎসই হলো মানুষ। শেখ হাসিনা বলেন, যদিও এবারের বাজেটে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর কমানো হয়েছে, তা মানে বিএনপি বা বিরোধী দল এটা মানতে চান না। এর উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবন সহজ করে তোলা, যাতে তারা ভালো থাকতে পারে। বিরোধীদল দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চেষ্টা করছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা গণবিরোধী বাজেটের বিরুদ্ধে বিরোধিতা করছে। তিনি প্রশ্ন করেন, যেখানে কর কমানো হয়, সেখানে বিরোধী দল কেন বিরোধিতা করে? স্পষ্ট করে বলেন, তাদের উদ্দেশ্য দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নয়, বরং অশান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাধারণ আলোচনা শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছেন। সমাবেশের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উৎসাহ দিয়ে জানান, পাতলী খাল পুনঃখননের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি জমির সেচ সুবিধা বাড়ানো। এই খালটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় খনন শুরু হয়েছিল। এই খালের উন্নয়নের ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে এবং সাড়ে ৮ হাজার কৃষক তাঁদের কাজের সুবিধা পাবেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ হলেও, শিল্প ও বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্পখাতের উন্নতির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, দেশের উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে, যাতে দেশী শিল্পের সুরক্ষা ও উন্নতি হয়। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের মালিক জনগণ—কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবারের নয়, বরং বাংলাদেশে থাকা সমস্ত ২০ কোটি জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতের মধ্যে, তাই আমাদের লক্ষ্য, দেশ গড়ে তোলাই হলো আমাদের মূল অঙ্গীকার। দেশের উন্নয়নে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্মের সুখ-শান্তি নিশ্চিত হবে না—এমন ভাবনা থেকে সবাই একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ অনেকে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে, পিএমখালী ইউনিয়নের এই খাল পুনঃখননের কাজে শুরুতে উপস্থিত থেকে তিনি নিজের হাতে কোদাল চালিয়ে কাজের উদ্বোধন করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি খালের পাশে এক বানানো খেজুর গাছের চারা রোপণও করেন। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ ও কৃষির উন্নয়ন চেতনা জোরদার হয়, এই খালটি আরও কার্যকরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

