আজ বিশ্ব বাবা দিবস। এটি সেই দিন, যখন আমরা নিঃশর্ত ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং ত্যাগের প্রতীক আমাদের বাবা-মাকে সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাই। বাবা আমাদের পরিবারের ছায়ার মতো সবার ওপরে বিশাল এক পরিচয়, যিনি প্রতিদিনই অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, থাকেন অনেকটা নীরব থাকলেও তাঁর ভালোবাসা অপরিসীম। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাবার অবদান ও গুরুত্ব, তাদের অগ্রাধিকার ও সংগ্রামের কথা।
বিশ্ব বাবা দিবস প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পালিত হয়। এই দিনটির রীতিতে শুরু হয়েছিল ১৯১০ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সোনোরা স্মার্ট ডোড নামে এক নারীর উদ্যোগে, যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো বাবার প্রতি সম্মান জানাতে ‘ফাদার্স ডে’ উদযাপন করেন। এর মাধ্যমে এটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি বিশেষ দিন, যেখানে আজকের দিনে বিশ্বের অনেক দেশ বাবাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।
প্রায় সব বাবাই তাদের সন্তানের জন্য বটবৃক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ। হাজারো ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও তারা পরিবার ও সন্তানের কল্যাণে সর্বদা সচেষ্ট থাকেন। বাবার সহজ ব্যাখ্যাটা অনেকের জন্যই কঠিন; বলা হয়, বাবার মধ্যে নিখাদ ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং সাহচর্য থাকে।
১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মোনোনগাহে কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩৬২ জন পুরুষ, যাদের মধ্যে অধিকাংশই বাবা। এই দুর্ঘটনায় প্রায় এক হাজার শিশুর জীবন তখন আঁধার হয়ে যায়। এর পরের বছর, ১৯০৮ সালে, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের একটি গির্জায় বাবাদের শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে প্রথমবারের মতো স্মরণসভার আয়োজন হয়, যা ছিল বাবাকে সম্মান দেয়ার প্রথম আঞ্চলিক উদ্যোগ।
১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দেশের সরকারি রীতিতে প্রতি বছর বাবা দিবস পালনের ঘোষণা দেন। এর আগে, ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুনের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্বে এ দিনটি পালিত হয়। শুরুতে ওয়াশিংটন থেকে শুরুর এই প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে অন্য রাজ্য ও দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানরা ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি করে মাকেওই শুধু নয়, বাবার কথাও গুরুত্ব দিতে শুরু করে। এর ফলে ১৯২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলি বাবাদিবসের স্বীকৃতি দেন।
আজকের দিনে বাবা-মা প্রতিদিনই তাদের সন্তানদের জন্য অনুপ্রেরণা, সাহস ও ভালোবাসার উৎস। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাবাদের অবদান ও দায়িত্বের গুরুত্ব, এবং তাঁদেরকে সঠিক প্রণাম ও ভালোবাসা দেওয়ার। বস্তুতই, বাবাদের জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা কখনো কমবে না।

