বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ), যেখানে ১৭৩টি শহরের স্থানীয় পরিস্থিতি র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই তালিকায় দেখা যায় যে, বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের কপেনহেগেন, যা টানা দ্বিতীয় বার প্রথম স্থানে অবস্থান করছে। এর গড় স্কোর ৯৮ থেকে মোট ১০০ এর মধ্যে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা, যেখানে স্কোর ৯৭।
অর্ন্তগঠনের দিক থেকে এই তালিকায় স্থান পেয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু শহর—মেলবোর্ন, সিডনি ও অ্যাডিলেড। এছাড়া, জাপানের ওসাকা ও টোকিও, সুইজারল্যান্ডের দু’টি শহর ও কানাডার একটি শহরও শীর্ষ দশে রয়েছে।
অপরদিকে, এই বছরের আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা যায় যে, বিশ্বের ১৭৩ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ঢাকায় মোট স্কোর ৪২, যা ১০০ এর মধ্যে। এই স্কোরের ভিত্তিতে বলা যায় যে, বাসযোগ্যতার দিক থেকে দেশের রাজধানীর নিচে রয়েছে কেবল সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি।
ইকোনমিস্টের মতে, চীনের বিভিন্ন শহরের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জাপানের অগ্রগতি এই অঞ্চলের মোট মানের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবে, দেশের অন্যান্য শহরের অনুন্নত অবকাঠামো, স্বাস্থসেবার দুর্বলতা ও দীর্ঘস্থায়ী নগর অবস্থা ঢাকার বাসযোগ্যতা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই সূচকে ঢাকা মোট ৬৭ পয়েন্টের মধ্যে ৪২ পেয়েছে, যা নগরীর সামগ্রিক উন্নতিতে বাধা তৈরি করছে।
বিশ্ববাজারে এই স্কোরে স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলেও, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যেমন ইরানের পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এ সূচকের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এই কারণে বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতার সূচকও কিছুটা পতন হয়েছে।
শীর্ষে থাকা শহরগুলোর মধ্যে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন টানা দ্বিতীয় বছর এই তালিকার সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর, যেখানে ভিয়েনা ও মেলবোর্ন যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
এসিয়ার উন্নতিও মনোযোগ আকর্ষণ করে, যেখানে বেশ কিছু শহর স্বাস্থের উন্নতি ও সংস্কৃতি ও পরিবেশে অগ্রগতি দেখিয়েছে। তবে, ঢাকার মতো শহরগুলো এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও নগর পরিবেশের দুর্বলতাই এর মূল কারণ। এই পরিস্থিতিতে, এশিয়ার গড় বাসযোগ্যতা সূচক ৭৪ হলেও, ঢাকার স্কোর ৩২ পয়েন্ট কম।
সার্বিকভাবে, এই তালিকা দেখাচ্ছে যে, দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নানান কার্যক্রমের অভাবে ঢাকার মতো শহরগুলো উন্নতির পথে এখনো দূরবর্তী। তবে, চীনের অগ্রগতি ও অন্যান্য উন্নয়নশীল শহরগুলোর উন্নয়ন কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে যেহেতু এই তালিকায় এখনও বেশ কয়েকটি শহর যুদ্ধবিধ্বস্ত বা অর্থনৈতিক দুর্বলতার জন্য নিচের দিকে রয়েছে, এটি বোঝায় যে বিশ্বে বাসযোগ্যতার এই সূচক এখনও অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
