শিল্প, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার প্রাইভেট সেক্টরকে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য সহজ করে তুলতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সব ক্ষমতা নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি এবং দ্রুত সম্ভব বিভিন্ন Sector-এ কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আছি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পাঠ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক চুক্তি স্বাক্ষরিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার যখনই কোনো ব্যবসা পরিচালনা করেছে, তখন বিভিন্ন সময় অদক্ষতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত খাতের উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসার অদক্ষতা কাটিয়ে ওঠা সহজ এবং এ ক্ষেত্রে ডে টু ডে ম্যানেজমেন্ট ও অপারেশনাল দক্ষতা অনেক বেশি। তাই, বেসরকারি খাতকে আরও সুবিধা দিলে নিশ্চিতভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
নরসিংদীতে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ জুট এয়ারলাইন্স লিমিটেডের মধ্যে ৩৪.৫০ একর জমির লিজ প্রদান চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে টিকে গ্রুপের মধ্যে এই জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হল জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সামনে রেখে বিজেএমসির বন্ধ মিলগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের কাজ চলছে। এর ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত হবে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টির লিজ দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি স্বাক্ষর এবং ৯টিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই মিলগুলোতে প্রায় ৯৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনিক প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের ৭৭.০২ একর জমির মধ্যে প্রায় ৩৪.৫০ একর জমি ইতোমধ্যে লিজ দেয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমানে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। সেখানে দিনে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩২০০ জনের।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ১৪.৮০ একর জমির লিজ দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করবে। এতে বার্ষিক উৎপাদন তাŁ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে এবং আরও ৩ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বিনিয়োগ কেবল একটি শিল্পের সম্প্রসারণ নয়, বরং দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধা সৃষ্টি করবে, যা বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
