বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সম্পূর্ণভাবে ক্রীড়া সংগঠক এবং ক্রীড়ার উন্নয়নে তার অবদান স্মরণীয়। রিজভী বলেন, কোকো শুধু একজন ক্রীড়াবিদই ছিলেন না, বরং তিনি ক্রীড়ার জন্য কাজ করে গেছেন, এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে চেয়েছেন যাতে ক্রীড়া বিভাগের জন্য সরকারের তরফে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সুবিধা নিশ্চিত হয়। আজ বুধবার, কোকো সাহসের জন্মদিনে বনানী কবরস্থানে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন।
রিজভী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকো কখনোই রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তিনি ছিলেন ক্রীড়ার একজন নিবেদিত সংগঠক নিজের জীবনে ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। তিনি চান, ক্রীড়াবিদরা যাতে পেশা হিসেবে ক্রীড়াকে গ্রহণ করে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। রিজভী আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং কোকোর ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে।
তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত আছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, যিনি অত্যন্ত যোগ্য, এবং তিনি তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে কোকো의 আত্মা শান্তি পাবে। মরহুম কোকোর স্মৃতি স্মরণ করে রিজভী উল্লেখ করেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি অসময়ে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর মরদেহ দেশে আনার সময় তার মা খালেদা জিয়া বন্দি ছিলেন। সেই সময় তাদের আটকে রাখা হয় বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে, গোলমরিচের স্প্রে করে অবরুদ্ধ করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাকে তিনি বর্ণনা করেন, যেখানে মা-ছেলে সম্পর্কের ওপর প্রতিহিংসার ছায়া পড়েছিল।
রিজভী অভিযোগ করেন, জনগণের মধ্যে জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো সহ্য করতে পারেননি। তাই তার পরিবারকে নানা ধরনের হয়রানি ও অপপ্রচারে ফেলা হয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য জিয়াউর রহমানের পরিবার নানা সময় নিপীড়নের শিকার হয়ে এসেছে। খানিকটা শোষণ ও নিপীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছেন বর্তমান সরকার। এর পাশাপাশি, আজকের দিনেও ইতিহাসকে বিকৃতি করার চেষ্টা চলছে, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জিয়াউর রহমানের অবদানকে মুছে ফেলতে চাওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক নানা কারণেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি, বলছেন রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানসহ বিএনপির অনেক নেতা দেশপ্রেমের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। সেসব কর্মকাণ্ড এখনো অব্যাহত রয়েছে। জুলাইয়ে শহীদদের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামের অশেষ প্রেরণার উৎস ছিল জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান। এ আন্দোলনের প্রাণশক্তি ছিল শহীদ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বের আত্মদান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জিয়াউর রহমানের অবদান সম্পর্কে কিছু রাজনৈতিক দল ষড়যন্ত্র করছে, যা দেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। সবাই চায় এ সব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর মোকাবিলা করতে।
স্মৃতি রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামের অংশ হিসেবে বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে রিজভী একথা বলেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা মোস্তফা জামান, সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

