গণতন্ত্রের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। এই বিশেষ দিন উপলক্ষে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ঢাকায় দলের কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। ঢাকায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ শনিবার সকাল ১১টায় এক বিশাল মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন স্থানে দল ও সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এই দোয়া ও মিলাদে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছর ৩০ ডিসেম্বর, বিএনপির চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অনেক জীবনীশক্তি নিয়ে নয় বছর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মৃত্যুকালে তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থাইটিস, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ভুগছিলেন। এছাড়াও তার কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ছিল। মৃত্যুর আগে তিনি হৃদরোগ ও ফুসফুসে সংক্রমণের শিকার হন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা চলাকালে তার বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল, তবে শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় ভুগলেও তার আদর্শ ও সংগ্রামী মানসিকতা নিঃস্বন্দেহে অনুপ্রেরণার स्रोत। তিনি ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল ফেনী। স্কুল জীবন শুরু হয় দিনাজপুরে, এরপর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম হিসেবে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বহু নির্বাচনে পরাজিত হননি, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পঞ্চবার নির্বাচিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি দেশের রাজনীতিতে এক অমোচনীয় স্থান অর্জন করে গেছে। আজকের দিনটি তার জীবনের সংগ্রাম, আপসহীনতা এবং দেশের মানুষের কাছে অবিচল প্রবল অপ্রীতিকর সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে, যা প্রেরণার উৎস।
