নির্বাচন কমিশন দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ গুরুতর আহত, নিহত বা বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, তবে তাদের ও পরিবারের জন্য একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কি ধরনের পরিস্থিতিতে কত টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
নতুন এই নীতিমালার আওতায়, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় বা দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থ সাহায্য প্রদান করা হবে। যদি কেউ গুরুতর আহত বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হন, তবে তাদের জন্য দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা, আর সাময়িকভাবে আহত বা অক্ষম হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা। সাধারণ আহতের ক্ষেত্রে আঘাতের ধরন অনুযায়ী এই অনুদান সীমা হলো ৫০ হাজার টাকা।
আর যদি দায়িত্ব পালনকালে কেউ আকস্মিক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাদের পরিবার পাবে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা। এছাড়া গুরুতর অসুস্থতা বা স্থায়ী অক্ষমতার জন্য দেওয়া হবে ৩ লাখ টাকা, এবং সাময়িক অসুস্থতার জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান। হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার ব্যয়বহুল পরিস্থিতিতেও এই অনুদানের সীমা নির্ধারিত রয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার আর্থিকভাবে কিছুটা সুরক্ষা পায়।
নীতিমালা অনুযায়ী, এই অনুদান পরিবারের উত্তরাধিকার বা অনুমোদিত উপায় দ্বারা প্রদত্ত হবে। যদি নিহত ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে টাকা সমান ভাগে বিতরণ করা হবে। সন্তানের বয়স, বিবাহ, বা পরিবারের অন্যান্য পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে এগুলো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী জীবিত না থাকে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য দুই অপ্রাপ্ত বা অবিবাহিত সন্তান, বা বাবা-মা এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, উপযুক্ত উত্তরাধিকারী বা পরিবারে ব্যক্তির অবর্তমানে বয়ে চলা এই অনুদান নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে প্রদান হবে।
আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট ফরম, ছবি, আইডি, স্বাস্থ্য ও মৃত্যুর সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রেরণের জন্য ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সুপারিশের জন্য একটি ৫ সদস্যের মানদণ্ডে গঠিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যারা প্রতি বছর কমপক্ষে দুবার আবেদন যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুদান নির্ধারণ করবে। পরে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা কমিশনের নিজস্ব বাজেট থেকে করা হবে।
সংক্ষিপ্তভাবে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপরে আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণে ক্ষতি হলে তাদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন, যাতে দায়িত্ব পালনে তাদের মনোবল ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

