বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।
দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান রোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকের শুরুতেই সালাহউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানে সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, এই সফরের ধারাবাহিকতায় স্বাক্ষরিত সীমান্তে মাদক ও সাইকোট্রপিক উপাদান গ্রাহ্য প্রতিরোধে সমঝোতা স্মারক দুই দেশের নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ ১৪ বছর পর এ বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, তিনি পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি পোষ্য পাকিস্তানি নাগরিক তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (সিএনআইসি) পেতে জটিলতায় পড়েছেন, যার ফলে তারা শিক্ষার এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে তিনি পাকিস্তানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
নগর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ২০২৫ সালে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে এই ‘সেফ সিটি’ মডেল বাস্তবায়নে তাদের অনন্য অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শহরগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিদের্শ হতে পারে।
পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নে পাকিস্তানের সহায়তা প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একত্রে কাজ করে এই সংকট মোকাবেলা করেছেন। ভবিষ্যতেও এই ধরনের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটে নিবিড় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চান তারা। তিনি আরও জানান, মিয়ানমার যেন দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়, এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সমর্থনের প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।
অন্তত, পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর আরও সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে আমন্ত্রণ জানান। জবাবে, সালাহউদ্দিন আহমদ ধন্যবাদ জানিয়ে প্রয়োজনে সফরের জন্য প্রস্তুতির আশ্বাস দেন। এই বৈঠকে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

